বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
কালিয়াকৈর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কয়লা কারখানা।এতে শাল-গজারি,আকাশমনি,ইউক্যালিপটাস,মেহগনি ও বেলজিয়ামসহ নানা প্রজাতির কাঠ কয়লা বানানোর কাজে পুড়ানো হচ্ছে।ফলে কারখানার ধোঁয়ায় পরিবেশ হুমকির মুখে। শিশু,বৃদ্ধ, পশু-পাখি ও বন্যপ্রাণীদের নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়াও শাল-গজারিসহ সামাজিক বনায়ন উজাড় হওয়ার পথে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বড় গোবিন্দপুর হোসেন মার্কেটের আধা কিলোমিটার উত্তরে কোটবাড়ি গ্রামে তোতা মিয়ার ১ টি,নুরু ফকিরের২টি,টিকরাচালা মাঠের পশ্চিম পাশে নুরুল হাজীর ২ টি,এবং ভাল্লুকবেড় এলাকায় রানা সিকদারের ২ টি ও আনোয়ার হোসেনের২টি,এছাড়াও বাংলাবাজার স্ট্যান্ডের বাম পাশে রহম নামের এক ব্যক্তির ৪ টি কয়লার কারখানা রয়েছে।এসব কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে সামাজিক বন ঘেঁষে এবং ঘনবসতি এলাকায়।
প্রতিটি কারখানা বন বিভাগের কালিয়াকৈর রেঞ্জের বোয়ালী বিট কার্যালয়ের আওতাধীন রয়েছে। কয়লা বানানোর মাটির তৈরি বড় আকারের চুলা। সংরক্ষিত ও সামাজিক বন থেকে আনা কাঠ ওই চুলায় দিন-রাত পুড়িয়ে কয়লা বানানো হচ্ছে। কারখানার আশপাশে বিশাল আকৃতির কাঠ স্তুপ করে রাখা আছে। চার-পাঁচজন শ্রমিক দিন-রাত কাঠ চুলায় পোড়ানোর কাজ করছেন।
দিনরাত ওইসব চুলা থেকে নির্গত ধোঁয়া গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এসব এলাকার শিশু,বৃদ্ধ, গবাদি পশু-পাখিসহ ফসলও নানা রোগে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে সামাজিক বনায়ন ও সংরক্ষিত শাল-গজারি। কারখানা থেকে ১০০ গজের মধ্যে নজরুল ইসলামের বাড়ি এবিষয়ে তিনি বলেন,দিনরাত কারখানার ধোঁয়া ও গন্ধে বাড়িতে থাকা যায় না। পরিবারের প্রায় সকলেই কোন না কোন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে কাশিতো আছেই।
এবিষয়ে বোয়ালী বন বিট কর্মকর্তা মো. মাসুম মিয়া বলেন,সামাজিক বনায়ন ঘেঁষে এসব কয়লা কারখানা গড়ে উঠলেও এটা বন বিভাগের জমিতে নয়,পাবলিকের জমিতে গড়ে উঠেছে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের দেখ ভালের দায়িত্ব। ওইসব কারখানা উচ্ছেদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)নুরুল করিম বলেন,কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন,খুব শিগগিরই ওইসব কয়লা কারখানা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।